পরীক্ষার প্রস্তুতি কিভাবে নেওয়া যেতে পারে?

    Intelligent Robot
    By Intelligent Robot
    সামনে শুনেছি ক্যাম্পাসে সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা।সারা সেমিষ্টার আরামে চললেও পরীক্ষা আসলেই ছাত্রছাত্রীদের ভীতি আর চাপ চলে আসে পাহাড়সম। বারবার ঘুরে ফিরে মাথায় আসে “ছাত্রজীবন সুখের হত পরীক্ষা যদি না থাকত” বাক্যটি। অনেকেই পরীক্ষা পদ্ধতির আবিষ্কারকের নামে ইচ্ছামত অভিশাপও দিয়ে ফেলে। যাই হোক আজ পরীক্ষার প্রস্তুতি বা আসলে কিভাবে পড়াশোনাতে মনোনিবেশ করা যায় সে প্রসঙ্গে আমার ছাত্রজীবনের কিছু অবজারভেশন তুলে ধরব। তোমাদের কারো কাজে লাগলেও লাগতে পারে। আসলে এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য আমি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য ব্যাক্তি মনে করিনা তবুও হয়ত কারো কাজে লাগলে ভাল লাগবে।আমি আমার সমগ্র লেখাকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বর্ননার চেষ্টা করেছি।
    ১)কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করা উচিত?বাংলা সিনেমায় অনেকেই দেখেছ একটা ডায়েরী নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। আর সেখানে সবাই মিলে মাঠে বসে বাদাম খায়, আড্ডা, হৈ হুল্লোড়। এরকম স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকেই খুশিতে এসে দেখো বিপরীত অবস্থা। নিয়মিত সকাল বিকাল সারাদিন ক্লাস এবং কয়েক সপ্তাহ পরেই টিউটেরিয়াল, এসান্টমেন্ট,কুইজ, ল্যাবের চাপে সিনেমায় দেখা স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে শুরু করে। দেশের নানান প্রান্ত থেকে নতুন জায়গায় এসে অনেকে ঠিকমত গুছিয়েও উঠতে পারো না প্রথম সেমিস্টারে সাথে বাবা মা পুরাতন বন্ধু বান্ধব দের ছেড়ে নতুন পরিবেশে মানসিকভাবে দুর্বল থাকো। কলেজের শিক্ষাপদ্ধতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাপদ্ধতির ভিন্নতার কারনেও অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রীরাও খেই হারিয়ে ফেলে আর সাথে বাংলা থেকে হঠাৎ ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা অনেকটাই কঠিন হয়ে যায় শিক্ষার্থীদের কাছে। যার ফলাফল প্রথম সেমিস্টারে খারাপ রেজাল্ট। পরবর্তীতে সবথেকে মেধাবী ছাত্ররাও মনবোল হারিয়ে আর ভাল করার স্বপ্ন দেখে না। সাথে কিছু অতি সহানুভূতিশীল বড় ভাইদের সান্ত্বনা-
    “ আরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে কি হবে আর ভাল রেজাল্ট করেই বা কি করবি তুই?? তুই কি টিচার হবে নাকি রে আতেল?? দেখ আমাকে দেখ আমার রেজাল্ট দেখ মাত্র ২.৫০ পেয়েও আমি কি খুশি!জীবনটা উপভোগ কর! ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ছস এমনিতেই ডিগ্রী নিয়ে বের হবি! রেজাল্ট দিয়ে কেউ কখনো চাকরি পাইছে?? বোকা একটা তুই!”
    এরকম মন খারাপের সময় এত ভাল সান্ত্বনা পেয়ে তোমরা সেই বড় ভাই আপুকে বাবা মা শিক্ষকের থেকেও বেশী শ্রদ্ধা করে গুরু মেনে ফেলো আর ওখানেই জীবনের অনেক স্বপ্ন কে চাপা দিয়ে ফেল। আর ভাব বিল গেটস সহ অনেকের কথায় যাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার পরেও তারা কত বিখ্যাত! বাস্তবতা হচ্ছে বাতিক্রম কে উদাহরন হিসাবে ভাবা ঠিক না। 
    যে সব কারনে পড়ালেখা করা উচিত?১। প্রথমত তুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছ জ্ঞান অর্জনের জন্য তাহলে নিজেকে প্রশ্ন কর কেন তুমি পড়বা না? জানার জন্য শেখার জন্য অবশ্যই তোমাকে পড়তে হবে২। একটা ডিগ্রী যখন তুমি অর্জন করবা কেন তুমি না শিখে সেই ডিগ্রীটা পেতে চাইবা? ৩। মাস শেষে পড়ালেখা না করেই যখন বাবার কষ্টে অর্জিত করা টাকা নিয়ে দিব্যি নষ্ট করছ তখন কি মনে হয়না তুমি বাবামার সাথে প্রতারনা করছ?৪। পড়ালেখা না করে না শিখেও ভাল চাকরি পাওয়া যায় কথাটা ঠিক না। তুমি যদি নিজের সাবজেক্ট সম্পর্কেই না জানলে তাহলে চাকরিটে যেয়েও তোমার ফাঁকি দেওয়া অভ্যাস থাকবে৫। মোটামুটি একটা ভাল রেজাল্টের সব জায়গায়ই দাম আছে। আমার মনে আছে দেশের এক সনামধন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খুব খারাপ গ্রেড নিয়ে বের হওয়া এক বন্ধুকে ভাইভা বোর্ডে বলেছিল আপনি ছাত্রজীবনেই যেখানে পড়ালেখা করেননি আমাদের কোম্পানিকে কি সার্ভিস দিবেন।৬। বেশীরভাগ চাকরীর ভাইভাতেই দেখবা নিজের সাবজেক্ট সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন থাকবে। না পাড়লে লজ্জায় পড়তে হবে আর নিজের প্রতি অনুশোচনা হবে কেন ছাত্রজীবনে একটু পড়লাম না৭। অনেকেই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার স্বপন দেখ। ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য এবং স্ক্লারশীপের জন্য অনেক ক্ষত্রেই পূরবর্তী শিক্ষাগত ডিগ্রীর ফলাফলের একটা মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে৮। তোমরা অনেকেই মনে স্বপ্ন থাকলেও বলতে পারোনা তোমরা শিক্ষক হতে চাও।কোন ছাত্রছাত্রী যদি কখনো সবার সামনে বলে ফেলে তার স্বপ্ন শিক্ষক হওয়া তাইলেই হয়ছে! সবার মনোভাব দেখে মনে হবে সে মনে হয় সব থেকে খারাপ কথা বলে ফেলেছে। এই পেশায় আসলে সবথেকে বড় সুবিধা মানুষ গড়ার কারিগর হতে পারবে। ভাল শিক্ষক হতে পাড়লে ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুকরনীয় ব্যাক্তি হতে পাড়বে, অনেক সম্মান পাবে। সবচেয়ে বড় কথা এরকম স্বাধীন আর মহান পেশা পৃথীবিতে আর নাই। একমাত্র শিক্ষকরাই কারো কাছে না শুধু তার বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ। বর্তমান বেতন কাঠামোতে শিক্ষকদের সম্মানীতাও নেহাৎ কম নয়। তাই চেষ্টা কর রেজাল্টটা ৩.৫০ রাখতে। এটা থাকলে বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুযোগ আসতে পারে।
    পড়ালেখা নিয়ে কিছু কমন সমস্যা!শিক্ষকতা করার ফলে এবং বিভাগের কনিষ্ঠ শিক্ষক হওয়ার সুবাদে অনেক ছাত্রছাত্রীরাই পরামর্শের জন্য আসত যে তারা পড়ালেখা করতে চাই এবং ভাল ফলাফল করতে চাই কিন্তু কিছু কমন সমস্যা ফেস করেঃ১। যেটা আসলে সার্বজনীন সমস্যা –স্যার পড়তে ভাল লাগে না২। পড়তে বসলে ঘুম আসে কিন্তু মুভি দেখতে বা গেম খেলতে দিলে কয়ের রাত স্যার না ঘুমায় পার করে দেই৩।পরীক্ষার আগে বাদে পড়ি না৪।আড্ডা মারতে অনেক ভাল লাগে তাই পড়ার সেরকম সময় পাইনা৫।মেয়েদের ক্ষেত্রে কমন সমস্যা-আম্মুর কথা খুব মনে পড়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনা আর রান্না করে খাইতে হয় সাথে পানি খারাপ, বুয়ার রান্না মুখে দেওয়া যায় না এসব কারনে পড়ালেখায় মন দিতে পারি না।৬।যাই পড়ি তাই ভুলে যায়৭।ক্লাসে যাওয়ার থেকে মেসে ঘুমাতে পছন্দ করিসমস্যাগুলো কিন্তু খুব সিলি তারপরও চেষ্টা করি ওদের পরামর্শ দিতে।
    কিভাবে পড়ালেখা করবে বা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো?তোমাদের অনেকেরই ধারনা আছে ভাক রেজাল্ট করতে হলে গাধার মত পড়তে হয়(যদিও গাধা পড়ালেখা করে না)। ধারনাটা সঠিক না। পড়ালেখা অলপ করলেই চলে তবে সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে পড়লেই হয়। পড়ালেখা উপভোগ করো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাল লাগার সব কর্মকান্ডতে জড়িয়ে থাকো এতে পড়ালেখা আরো উপভোগ্য হয়ে উঠবে।অনেকের মনে প্রশ্ন সে সারাদিন রাত পড়ে কিন্তু রেজাল্ট ভাল হয় না কেন? কারন হচ্ছে সবার স্কিল এক না। কেউ অল্প পড়েই অয়াত্ত করতে পারে কী বেশী পড়েও পাড়ে না । একটু সময় লাগে অনেকের। আমার ক্ষেত্রে যেটা করেছিলাম প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে অনেক বেশী পড়ালেখা করতাম কারন তখন বেসীক গড়ার সময়। এর ফলে পরবর্তীতে তুলনামূলক অনেক কম পড়লেও সহজে আয়ত্ত করতে পারতাম আবং রেজাল্ট ধরে রাখতে পেড়েছিলাম। 
    কিভাবে পড়ালেখা করতে পারো সে বিষয়ে কিছু নির্দেশনা-১। সব পড়া পরীক্ষার জন্য জমিয়ে না রেখে ক্লাসের সময় প্রতিদিন ১ ঘন্টা করে বাসায় এসে লেকচার খাটাতা খুলে দেখ আর কি কি ম্যাটারিয়ালসগুলো পরিয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করে হাইলাইটার দিয়ে মার্ক করে রাখ যেন পরীক্ষার কয়েকদিন আগে লিটেরেচারটা দেখলেও মনে একটু আত্মবিশ্বাস থাকে যে এত নতুন কোন বিষয় না তোমার জানা আছে। কয়েকদিন মিস হতেই পাড়ে। যে কোন ছুটির দিন একটু সময় দাও।
    ২। বাবাকে অনেক বুঝিয়ে যে ল্যাপটপটা কিনেছ যে এটা ছাড়া পড়াশোনা চলবে না একটু ভেবে দেখ কতক্ষন তুমি সেটা পড়ালেখার কাজে ব্যাবহার কর আর কতক্ষন মুভি, স্যোশাল মিডিয়া, গেমস খেলে আর বিনোদন নিয়ে ব্যাবহার কর। প্রতিতি চ্যাপ্টার শেষ হওয়ার সাথে সাথে ইন্টারনেট থেকে প্রাসংগিক লিটারেচার ডাইনলোগ করে রাখও অনেক কাজে দিবে কারন বইয়ে অনেক সময় কঠিক করে দেওয়া থাকে অথচ ইন্টারনেট থেকে দেখলে তোমার কনসেপ্ট ক্লিয়ার হবে।মুভি, স্যোশাল মিডিয়া, গেমস খে্লো আর বিনোদন নাও কোন সমস্যা নাই এগুলাও মন ভাল রাখার জন্য প্রোয়জন এবং নিজেকে যুগোপযুগি করার জন্য আবশ্যিক তবে পাশাপাশি কিছুটা সময় একাডেমিক কাজেও লাগাও।
    ৩। নিয়মিত ক্লাস করো আর ক্লাসে অবশ্যই শিক্ষকরা যেটা পড়াই খাতায় মূল পয়েন্টগুলো সুন্দরভাবে লিখ।অবশ্যই প্রতিটি ক্লাসের জন্য আলাদা আলাদা খাতা রাখবা তাহলে পরীক্ষার সময় ওই খাতা দেখলেও অনেক কিছু বুঝতে পারবা। শিক্ষকরা ক্লাসের বাইরে খুব কম বিষয়ই পরীক্ষায় দেয়। আর লেখার সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে শোনা বা পড়ার থেকে যেটা তুমি লিখবে সেটা তোমার মনে অনেকদিন থাকবে।৪। পরীক্ষার আগে আগে একটা পেইজে লিখে ফেল কি কি বিষয় তোমাকে পড়তে হবে। একেক করে সবগুলো বিষয়ের লিটারেচার গুছিয়ে ফেল। আর মনে রাখবে শিক্ষকরা যেই লিটারেচার দেয় সেটা পরীক্ষার সময় সংগ্রহ না করে ক্লাস চলাকালীন সময়ে একটু দায়িত্ব নিয়ে প্রন্ট অথবা ফটোকপি করে রাখ তাহলেও অনেক কাজ এগিয়ে থাকবে।
    ৫। আমি যেটা করি কোন বিষয় কখন পড়ব সেটা একটা আলাদা কাগজে লিখে ফেলি সাথে আমার হাতে কতটা সময় আছে সেটাও ক্যালকুলেট করে ফেলি। এর ফলে যেটা হবে তুমি পড়ার একতা তাগিদ অনুভব করবে। হয়ত সময়মত সব হবে না তারপরও অনেকটাই কাভা হবে৬। প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সব থেকে সহজ বিষয়গুলো আগে শুরু কর। প্রথমদিকে তাড়াতাড়ি শেষ হলে পড়ায় আগ্রহ তৈরি হবে
    ৭। আমি কখনোর একনাগাড়ে পড়তে পারি না। ধৈর্য থাকে না।মনীষীরাও বলে মানুষ পড়ালেখার ব্যাপারে একনাগারে মনযোগ ধরে রাখতে পারে না। কিছুক্ষন পড়ালেখা করো আর কিছুক্ষন যেটা করতে তুমি পছন্দ কর সেটা কর। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে গান শুনতে পারো, একটু ফেসবুকে ধুঁ মেরে আসলে, মোবাইলে কথাও বলতে পারো কারো সাথে, বন্ধুদের সাথে অথবা নিজে বানিয়ে চা কফিও খেয়ে আসতে পারো। আবার পড়ালেখা শুরু কর। এভাবেই অনন্দদায়ক করে তুললে পারো তোমার মনোযোগ। টেবিলে বসে পড়তে ভাল না লাগলে বিছানায় যাও বিছানায় না ভাল লাগলে টেবিলে যাও। তাও ভাল না লাগলে বারান্দা বা ছাদে যাও। আর লাইব্রেরী থাকলে অবশ্যি মাঝে মাঝে লাইব্রিরীতে যাও ভাল মনযোগ আসবে।
    ৮। কোন কিছুই না বুঝে মুখস্থ করো না আর পড়ক্ষার খাতায় হবুহু লিখে দেওয়ার চিন্তা করো না তাহলে সব ভুলে যাবে। এক লিটারেচার থেকে বুঝতে না পারলে কয়েক জায়গা থাকে পড়। কোন কিছু বুঝে পড়লে দেখবে অনেক তাড়াতাড়ি আয়ত্ত করতে পারছ এবং পরীক্ষার খাতাইয় একটু ক্রিটিক্যাল প্রশ্ন আসলেও লিখতে পারছ। আর রেজাল্ট খুব ভাল করতে হলে অবশ্যই একি বিষয় বিভিন্ন লেটেরেচার থেকে লিখতে হবে। তুমি অন্য সবার মত লিখলে শিক্ষকরা তোমাকে কখনোই সর্বোচ্চ মার্ক্স দিবে না। 
    ৯। মাঝে মাঝে পড়তে পড়তে একঘেয়েমি লাগতে পারে বা অনেক সময় দীর্ঘপক্ষন ধরে পড়ার চেষ্টা করলেও মনযোগ আসে না। বাইরে থেকে ঘুড়ে আসো, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দাও। পড়ে দেখবে একটা ভাল লাগাও কাজ করবে সাথে পড়ার ও চাপ তৈরি হবে তখন ৩ ঘন্টার পড়া ৩০ মিনিটেই শেষ হবে১০। কিছু বিষয় আছে পয়েন্ট মনে রাখতে হয় সেগুলো পড়া শেষে খাতায় লেখ। লিখলে মানুষ সেই জিনিস সহজে ভোলে না, পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় সব বিষয় লেখার সময় পাবে না তবে কিছু লেখার অনুশীলন করে যাও আত্মবিশ্বাস পাবে পরীক্ষার হলে।
    ১১।শেষ মূহূর্তের জন্য কিছু ফেলে রেখো না একটি সচেষ্ট হয়ে আগেই শেষ করে ফেল তাহলে মানসিক চাপে ভুগবে না।১২। পরীক্ষার দিন একগাদা পড়া জমিয়ে রেখো না। পরীক্ষার দিন অল্প কিছু বিষয় দেখে যাও। অনেকেই দেখি পরীক্ষার হলে ধোকার সময় অনেক পড়। এটা করলে হলে ধোকার আগে যেটা পড়েছ সেটাই মাথায় ঘুরতে থাকে বাকিটা ভুলে যাও
    ১৩। পরীক্ষার হলে যাওয়ার আগে প্রিয় কিছু গান শুনে যেতে পারো ভাল লাগা কাজ করবে।১৪। পরোক্ষা দিতে যাচ্ছ যুদ্ধে না। খুব বেশী হলে পরীক্ষা খারাপ হবে এর বেশী কিছু না তাই এত ভয় পাওয়ার কিছু নাই। অনেকেই ভয়ে কাপাকাপি করো। নিজের মনকে প্রশ্ন করে দেখো পরীক্ষা খারাপ হলে কি হতে পারে? কিছুই না, কেউ তোমাকে কারাগারে পাঠাবে না। তাই নো পেনিক!
    ১৫। নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখ, সবমময় ভাববে তুমি তোমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছ প্রস্তুতি নেওয়ার তাই পরীক্ষা খারাপ হওয়ার কোন চান্স নাই। যাই আসুক তুমি পারবেই। তোমার থেকে ভাল আর কএয় পারবেনা ।মনোবল রেখেছ মানে তোমার পরীক্ষা ভাল হতে বাধ্য।১৬। পরীক্ষার হলে মাথায় কখনোই আনবা না যে পাশের কারো প্রতি নির্ভরশীল হবে বা দেখে লেখতে হবে। এটা করলে তুমি যেটা পারো দেখবে সেটাও ভুলে যাবে। পণ করে যাও যাই আসুক তুমি প্রস্তুতি নিয়েছ তোমার বুদ্ধিতেই লিখবে। আশা করি ভাল হবে।
    সর্বোপরি সবার জন্য শুভকামনা রইল। 

    সোর্সঃ http://bit.ly/2gmu4m7