পলিটেকনিক লাইনে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তারপর বিএসসি করে জীবন গড়া কি সম্ভব?

    Intelligent Robot
    By Intelligent Robot

    প্রশ্ন::

    আমি ssc 14, রেজাল্ট জিপিএ ৫ ছিলো। এবার hsc দিলাম। স্বপ্ন ছিলো ssc পাস করার পরে বুয়েট, কুয়েট রুয়েটের মতো ভার্সিটিতে চান্স পেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো। কিন্তু ssc পাসের পরে পড়ায় প্রচুর ফাকি দিছি। ২ বছর একদম পড়ালেখা করি নাই। এখন আমি বিজ্ঞানের বিষয়গুলো প্রায় ভুলেই গেছি। ssc লেভেলের জ্ঞানও অনাচর্চায় হারিয়ে ফেলছি। আমার অনেকগুলো বন্ধুরও একই অবস্থা। ওরা এখন বিজ্ঞান ছেড়ে ucc তে ঘ-ইউনিটে কোচিং করছে।

    আমি যেহেতু জেনারেল থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার আশা করতে পারছিনা, তাই XXXX সরকারি পলিটেকনিকে আবেদন করে ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজিতে চান্স পেয়েছি। পলিটেকনিক লাইনে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে তারপর বিএসসি করে জীবন গড়া কি সম্ভব?

    আমার উত্তর::

    ১. তোমার প্রথম সমস্যা- তোমার ফ্রেন্ড সার্কেল। ওদের পাল্লায় পড়ে, মোজমাস্তি করতে করতে তোমার এই হাল হইছে। এইরকম ফ্রেন্ডদের সাথে যত বেশি ঘেষটাঘেষটি করবা, তত বেশি পিছিয়ে পড়বা। লাইফের সব সুযোগ নষ্ট করে, কান্নাকাটি করে সব ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবা না। সো, বি কেয়ারফুল। ডোন্ট বি এ ফুল।

    ২. পলিটেকনিকে ৪ বছর পড়ে তারপর আরো ৪ বছর বিএসসি করে জীবন গড়া অবশ্যই সম্ভব। এমন হাজার হাজার ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশে আছে। তবে বিএসসি শেষ করতে টোটাল ৯ বছর লেগে যাবে। ডিপ্লোমা শেষ করে বিএসসিতে ভর্তির জন্য কমপক্ষে এক বছর লাগবে ভর্তি পরীক্ষার প্রিপারেশন নিতে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তবে তার চাইতেও ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে পলিটেকনিকের ৪বছর সিরিয়াসলি পড়ালেখা না করলে বিএসসিতে চান্স পাবা না। তারমানে তুমি এখন যেই স্টাইলে চলতেছো, সেই স্টাইল ছেড়ে সিরিয়াস হওয়া লাগবে। সিরিয়াস না হলে, যেই লাউ সেই কদু হয়েই সারাজীবন থাকা লাগবে। ডিপ্লোমাই হবে না, বিসিএস তো দূর কি বাত!

    ৩. তুমি যদি hsc পাশ করতে পারো। তাহলে কিছু মিনিমাম নলেজ তোমার ভিতরে আছে। এমনকি প্রশ্ন পেয়ে hsc পরীক্ষা দিলেও, ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল, প্রিটেস্ট, টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্ন নিশ্চয়ই ফাঁস পেয়ে পাস করোনি। তাই hsc তে একদম পড়ালেখা করোনি, তা কিন্তু না। অল্প কিছু হলেও তুমি জানো।

    মানলাম, তুমি বুয়েট, কুয়েট, রুয়েটে চান্স পাওয়ার যোগ্যতা রাখো না। তবে নতুন কিছু সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষার আরো চার-থেকে পাঁচ মাস সময় আছে। এখন থেকে সব ছেড়ে ছুড়ে, নিজেকে অনলাইন দুনিয়া, মোবাইল দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে, দিন রাত অমানুষের মতো পরিশ্রম করে গেলে, অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব। নোয়াখালি, পাবনা, রাঙামাটি, গোপালগঞ্জ এর মতো নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকার জন্য তোমাকে একদম প্রথম সারির কেউ হতে হবে না।

    ৪. ধরলাম, চার মাস চেষ্টা করেও তুমি সরকারি সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলে না। তখন তুমি যে পলিটেকনিকে চান্স পাইছো, সেখানে চলে যাও। এটলিস্ট একটা সেটিসফেকশন নিয়ে যেতে পারবা- "আমি চেষ্টা করে দেখেছি। hsc তে যা করছি, করছি। তবে, ভর্তি পরীক্ষার আগে, নিজের সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করে দেখেছি। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ কাজে লাগাতে চেয়েছি। "

    আর চান্স না পাইলেও, এই উছিলায় যেগুলা পড়া হবে, সেগুলা তোমাকে পলিটেকনিকের অন্য পোলাপানের চাইতে অনেক অনেক এগিয়ে রাখবে। সেখানে ভালো রেজাল্ট করা সহজ হবে। তাই একটা চান্স নিয়ে দেখো- জীবন পাল্টাতে পারো কিনা।

     

    সোর্সঃ http://jhankarmahbub.com/askJhankar/diploma.html